জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে দেখে নিন

জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে দেখে নিন

আপনার NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, আপনি কি জানেন? আর সবগুলো নাম্বার আপনার নিজস্ব তো! একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে অবশ্যই আপনার NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা জানা এবং সিম নিবন্ধন যাচাই করা আপনার জন্য খুবই জরুরী বিষয়। কেননা, বর্তমান নতুন নিয়মে একটি ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ১৫টির বেশি সিম নিবন্ধন করা যায় না। তাই অবৈধ সিম বিক্রির সকল পথ অনেকটা বন্ধ। কিন্তু, অনেক ব্যবসায়ীই অসচেতন কাস্টোমারের অজান্তে তার নামে অবৈধভাবে অনেক সিম নিবন্ধন করে বিক্রি করছেন। যার ফলে, অন্যের কুকর্মের ফলে আপনার ভুক্তভোগী হওয়ার সম্ভাবণা তৈরি হচ্ছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র /NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে : সিম নিবন্ধন যাচাই

আপনার সিম যদি সচল থাকে তাহলে নির্দিষ্ট সিম থেকে *16001# লিখে ডায়াল করুন। রিপ্লাই এ Please Enter Last Digit Of Your ID অর্থাৎ, আপনার ভোটার আইডি কার্ডের শেষের ৪ ডিজিট লিখে রিপ্লাই করতে হবে।

কিছু সময়ের মধ্যেই আপনার মোবাইলে কাস্টমার কেয়ার থেকে আপনার nid দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, কোন কোন নাম্বার registration করা হয়েছে সে সব সম্পর্কে একটি বিস্তারিত মেসেজ পাঠাবে।

আপনি যদি দুইবার টাইপ করতে না চাইলে সরাসরি *16001*ভোটার আইডি কার্ডের শেষ 4 ডিজিট# (উদাহরণস্বরূপ, *16001*9829#) লিখে ডায়াল করলেও আপনার NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা জানতে পারবেন। কিন্তু, এখানে সম্পূর্ণ নাম্বার লেখা থাকবে না।

নিরাপত্তা জনিত কারণে সাধারনত মাঝের ডিজিটগুলো গোপন রাখা হয়। এবার,নিচের ইমেজটি দেখুন, ফিরতি মেসেজে পাওয়া তথ্য অনুসারে সর্বমোট ৫টি নাম্বার আমার NID দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪টি গ্রামীনফোন এবং ১টি রবি অপারেটরের নাম্বার।

এবার,এসএমএস এর মাধ্যমে সিম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য আপনার ভোটার আইডি কার্ডের শেষ ৪ ডিজিট লিখে ১৬০০১ নাম্বারে মেসেজ পাঠাতে হবে। ফিরতি রিপ্লাইয়ে আগের মতই আপনার কতগুলো সিম এই NID দিয়ে নিবন্ধন করা হয়েছে, তা জানতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র/ NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা জানার আরো কিছু পদ্ধতিগুলো দেখে নিন:

গ্রামীনফোন অপারেটর

Grameenphone: গ্রামীনফোন অপারেটরের কোন সিম দিয়ে সিম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য info লিখে 4949 নাম্বারে send করতে হবে। তাছাড়া, REG লেখার পর আপনার NID কার্ডের ১৭ ডিজিট লিখে 4949 নাম্বারে send করুন। REG <space> NID Number; send to 4949

বাংলালিংক অপারেটর

Banglalink: বাংলালিংক নাম্বার থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কতটি নাম্বার নিবন্ধন করা আছে তা জানতে *16001# ডায়াল করতে হবে।

রবি অপারেটর

Robi: রবি নাম্বার থেকে *16001# ডায়াল করে nid দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে তা জানতে পারবেন।

টেলিটক অপারেটর

Teletalk: টেলিটক নাম্বার থেকে info লিখে 1600 নাম্বারে send করতে হবে।

এয়ারটেল অপারেটর

Airtel: এয়ারটেল নাম্বার থেকে সিম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য *16001# এটি ডায়াল করতে হবে।

বি.দ্র: আপনার সিম যদি পাসপোর্ট কিংবা কোন লাইসেন্স দিয়ে নিবন্ধন করা থাকে, তবে সিম নিবন্ধন তথ্য যাচাই অথবা কতটি সিম রেজিস্ট্রেশন করা আছে তা জানার জন্য উপরে উল্লেখ করা নিয়মগুলো অনুসরণ করতে পারেন, শুধুমাত্র আপনার ভোটার আইডি কার্ডের শেষ ৪ ডিজিটের জায়গায় পাসপোর্ট বা লাইসেন্সের শেষ ৪ ডিজিট লিখতে হবে।

হারানো সিম কার নামে রেজিস্ট্রেশন করা ছিল, কিভাবে জানবো?

যদি আপনার সিম  হারিয়ে যায়, তাহলে তা বন্ধ করতে কিংবা পুনরায় উত্তোলন করতে যে এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করা ছিল, তা সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য অবশ্যই হারানো সিম কার নামে রেজিস্ট্রশন করা ছিল তা জানা জরুরী।

এবার, হারানো সিম কোন NID কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করা ছিল তা জানার জন্য প্রথমেই আপনার অন্য কোন সিম দিয়ে উপরের নিয়মে অনুসরণ করে মেসেজ বা ডায়াল করতে হবে।

যদি ফিরতি মেসেজে নাম্বারের তালিকাতে হারানো সিম থেকে থাকে, তাহলে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন, যে এই ভোটার আইডি দিয়েই সিমটি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছিল।

আর যদি, এই তালিকায় না থাকে, তবে সম্ভাব্য কার আইডি কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে থাকতে পারেন, তখন তার মোবাইল নাম্বার থেকে সেই ব্যক্তির ভোটার আইডির শেষ ৪ ডিজিট ব্যবহার করে মেসেজ পাঠাতে হবে।

এরপরেও কোন সমাধান না পেলে কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে আপনার সমস্যা খুলে বলুন, তারা আপনাকে কিছু হিন্টস দিয়ে দিবে (যেমন: জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ ৪ ডিজিট, অথবা সিম নিবন্ধনকারী ব্যক্তির নাম, ইত্যাদি)। তারপর আপনি খুব সহজেই কার আইডি কার্ড দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে তা জানতে পারবেন।

সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নিয়ম

যদি আপনি NID দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা দেখার পর  কোনো সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করতে চান তবে, সেই সিম অপারেটরের নিজস্ব কাস্টোমার কেয়ারে ফোন দিয়ে সেখানের কাস্টমার এজেন্ট এর সাথে কথা বলতে হবে।

এরপর, এজেন্ট এর কাছে আপনার সিম রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে ভেরিফিকেশনের জন্য নিজের নাম, পিতার নাম, ভোটার আইডি নাম্বার, ব্যালেন্স, সর্বশেষ রিচার্জের পরিমাণ ইত্যাদি জেনে ভেরিফাই করতে হবে ।এবার, ভেরিফিকেশন কমপ্লিট হলে তিনি আপনার সিমটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দিবেন।

তাছাড়া, নিকটস্থ নির্দিষ্ট কাস্টমার কেয়ারে গিয়েও আপনি আপনার যেকোন সিমের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করাতে পারবেন সহজেই।

সিম নিবন্ধন যাচাই নিয়ে শেষ কথা

বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে ডিজিটাল অপরাধ বাড়ছে, সেইসাথে বাড়ছে আইনের বিধি-নিষেধ।এখন, অপরাধী সনাক্তকরণে মোবাইল সিম এখন বড় হাতিয়ার। কিন্তু, সিমটি অবৈধভাবে রেজিস্ট্রেশন করা থাকলে আইন এবং নিরাপরাধ নাগরিক দুপক্ষের জন্য ঝামেলা সৃষ্টি হয়।

Leave a reply