অনলাইনে, শিক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | SSC, HSC, JSC, DIBS

অনলাইনে, শিক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | SSC, HSC, JSC, DIBS

আপনার কি, বোর্ড পরীক্ষার এডমিট কার্ড, মার্কশীট,রেজিস্ট্রেশন কিংবা সার্টিফিকেটে নিজের নাম ভুল , ভুল বানান, মা বাবার নাম ভুল এসেছে? তাহলে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য। সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন করা কি প্রয়োজন? কিভাবে নিজের নাম সংশোধন করতে হয় (Certificate Name Change ) এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এই প্রতিবেদনে৷ 

সার্টিফিকেটে নামের বানান কিংবা আক্ষরিক ভুল যেন কাল হয়ে দাঁড়ায় আমাদের অনেকের জীবনে । আর এই ভুল সংশোধন করতে অনেক সময় আবার কাওকে কাওকে প্রশাসনিক অনেক ঝামেলাও বহন করতে হয় অথবা অনেক বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে এখন ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমেই সার্টিফিকেট সংশোধন করা সম্ভব । তাই এখন আপনার নিজেই সার্টিফিকেট নামের ভুল সংশোধন নিজেই করতে পারবেন, অনলাইনের মাধ্যমে ।

সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | Certificate Correction Application

আপনি যে বোর্ডের অধীনস্থ হন না কেন, প্রায় একই নিয়মে নিজেই অনলাইনের মাধ্যমে নিজের নামের বানান অথবা আক্ষরিক ভুল কিংবা শব্দ জোগ/বাতিল করে ফেলতে পারেন। সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম সম্পর্কে জানার ১ম ধাপেই নাম সংশোধন বা certificate name change করার ধাপগুলো কি কি সে বিষয়ে চলুন জেনে নেওয়া যাক:

– প্রথমে কোন কোন বোর্ড পরীক্ষার জন্য আপনার নাম পরিবর্তন করবেন তার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
– অনলাইনে কিংবা অফলাইনে সার্টিফিকেটের নাম সংশোধনের জন্য আবেদন ফি অবশ্যই জমা দিতে হবে।
– স্কুল অথবা কলেজ থেকে আবেদনটি সঠিকভাবে ফরওয়ার্ড করিয়ে নিতে হবে।
– আবেদনের প্রেক্ষিতে নাম সংশোধন হয়ে গেলে এবার ফ্রেশ ডকুমেন্ট (সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট, ইত্যাদি) এর জন্য আবেদন করতে হবে।
– আবারও, আগের মতো অনলাইনে কিংবা অফলাইনে নতুন সার্টিফিকেট ও অন্যান্য ডকুমেন্ট কপি উত্তোলনের জন্য আবার আবেদন ফি জমা দিতে হবে। 
– আপনার ডকুমেন্ট তৈরব হয়ে গেলে বোর্ডে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পুরাতন ডকুমেন্ট দিয়ে সংশোধিত করা নতুন ডকুমেন্ট নিয়ে আসতে হবে।

সার্টিফিকেট সংশোধন করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট বা কাগজ লাগবে?

– নিজের নাম সংশোধনের জন্য অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের ইংলিশ ভার্সনের কপি যেটাতে আপনার সঠিক নাম রয়েছে।
– পিতা মাতার নাম সংশোধনের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার ভোটার আইডি কার্ডের সফট কপি প্রয়োজন হবে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য :

– ডকুমেন্টটি পিডিএফ ফরম্যাটে সাবমিট করতে হবে।
– এফিডেভিট বা নোটারি পাবলিকেশন এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি এর প্রয়োজন তেমন নেই তবে তা বিশেষেক্ষেত্রে লাগতে পারে।

তাহলে এইটাই হচ্ছে নাম সংশোধনের প্রক্রিয়া। চলুন বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক।

অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধনের জন্য আবেদন করার নিয়ম :

সার্টিফিকেট সংশোধন ফরমের এখনো অনলাইন প্রক্রিয়া আওতাধীন আসেনি, বরিশাল এবং দিনাজপুর বোর্ডে । এজন্য আপনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের নিকট অথবা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফরম ডাউনলোড করে তারপর পূরণ করতে হবে । অতঃপর তা প্রধান শিক্ষকের নিকট প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সহ জমা দিতে হবে। অন্যান্য বোর্ডে নাম সংশোধনের জন্য নিজ নিজ বোর্ডের ওয়েবসাইটের গিয়ে আবেদন করতে হবে।

নিম্নে সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম মাদরাসা বোর্ড, সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম কুমিল্লা বোর্ড, সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম চট্টগ্রাম বোর্ড, সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম যশোর বোর্ড, সার্টিফিকেট সংশোধন সিলেট বোর্ড এ আবেদন করার জন্য ওয়েবসাইট এড্রেস দেওয়া হলো:

বোর্ড ওয়েবসাইট
মাদরাসা বোর্ড efiling.ebmeb.gov.bd
কুমিল্লা বোর্ড web.comillaboard.gov.bd
চট্টগ্রাম বোর্ড web.bise-ctg.gov.bd
যশোর বোর্ড app.jessoreboard.gov.bd
সিলেট বোর্ড application.sylhetboard.gov.bd

অনলাইনে, সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম জানতে চাই, তাই আমাদের এমন একটি বোর্ড নির্বাচন করতে হবে যেটা অনলাইনে Certificate Correction Application জমা নিচ্ছে এবং Certificate Name Change করা শুরু করেছে।

আমরা এখানে ঢাকা বোর্ড থেকে, সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম দেখাবো।

– প্রথমেই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট এ যাবেন।
– এখানে আপনার অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন নামে একটি অপশন রয়েছে তা খুজে পাবেন। এখানে ক্লিক করুন।
– এরপর আপনি কয়েকটি অপশন দেখতে পাবেন।যার মধ্যে, নাম ও বয়স সংশোধনের আবেদন করার অপশনটিতে ক্লিক করবেন।

অনলাইনে, শিক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | SSC, HSC, JSC, DIBS The Dhaka Journal অনলাইন সার্টিফিকেট সংশোধন SSC HSC JSC PSC

– এখন আবেদন ফরম বাটনে ক্লিক করলে নতুন একটি পেইজ আসবে যেকোনো একটি পরীক্ষার (জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি) রোল, রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষার বছর সাবমিট করে তথ্য ভালোভাবে যাচাই করবেন।এবার সার্টিফিকেটের নাম সংশোধনের জন্য একটি আবেদন ফরম ওপেন হবে, যা ভালোভাবে পূরণ করে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে সাবমিট করতে হবে।

অনলাইনে, শিক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | SSC, HSC, JSC, DIBS The Dhaka Journal সার্টিফিকেট সংশোধন ফরম SSC HSC JSC DIBS

আপনি যে কোন র্বোড পরিক্ষা জেএসসি, এসএসসি কিংবা এইচএসসি জন্য নাম সংশোধন করতে পারবেন। ধরুন, আপনি এইচএসসি পাশ করেছেন তাহলে আপনি ইচ্ছা করলে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি এই তিনটি পরীক্ষার জন্যে একসাথে অথবা যে কোন দুইটি বা একটি পরীক্ষার জন্য নাম সংশোধন করার সুযোগ পাবেন । এখন আপনি কোন কোন পরীক্ষার জন্য নাম সংশোধন করবেন সেটা ঠিক করুন। তবে, সব পরীক্ষার জন্য নাম সংশোধন করাই উত্তম কাজ ।

এখন যে পরীক্ষার জন্য নাম সংশোধন করবেন তার পাশের বক্সে ক্লিক করুন। যেমন আপনি যদি, প্রথমে জেএসসির ইনফরমেশন দিয়েছেন আর তিনটি পরীক্ষার জন্যই নাম সংশোধন করতে চাচ্ছেন। তাহলে এখন, শুধুমাত্র এসএসসি এবং এইচএসসি পাশের বক্সে ক্লিক করুন। তাহলে দেখবেন আপনার এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষার সকল ইনফরমেশনগুলো অটোমেটিক চলে আসবে ।

এখন আপনি যদি শুধু নিজের নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে NAME এ ক্লিক করলেই হবে। যদি পিতার নাম অথবা মাতার নাম নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে ওই দুইটি পাশে দুটি অপশন (FATHER, MOTHER)এ ক্লিক করতে হবে। এখানে আরও একটি অপশন আছে সেটি হচ্ছে ডেট অফ বার্থ (DOB)- এই অপশনটি নিয়ে নিচে আলোচনা করা আছে।

আপনি কি কি সংশোধন করতে চাচ্ছেন সেটা সঠিকভাবে পূরণ করুন। আবেদন ফরমে আপনাকে একটি মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। আর এই মোবাইল নম্বরটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, পরবর্তীতে এই মোবাইল নাম্বারে আপনাকে ম্যাসেজ দেওয়া হবে।

এখন আপনাকে প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। সব ডকুমেন্ট অবশ্যই পিডিএফ ফরমেটে আপলোড করতে হবে। যেমন আপনি যদি শুধু নিজের নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আপনাকে শুধু জন্ম নিবন্ধন এর অনলাইন কপি( ইংলিশ ভার্শন) দিতে হবে। আর জন্ম নিবন্ধন এ আপনার সঠিক নামটি অবশ্যই থাকতে হবে। আর মাতার নাম বা পিতার নাম সংশোধন করার ক্ষেত্রে আপনার পিতা-মাতার NID এর পিডিএফ কপি সাবমিট করতে হবে।

আপনি এখন আবেদন ফর্মের তথ্যগুলো ভালোমত চেইক করে দেখে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। আর সাবমিট বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনি একটি আপনার ফোনে একটি ম্যাসেজ পাবেন।
এবার মেসেজে আপনাকে লগ ইন করার জন্য, একটি আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। যখন আপনি আবেদন সাবমিট করবেন, তখন ওয়েবসাইট এর আপনার জন্য একটি প্রোফাইল তৈরি হবে এবং ম্যাসেজে আসা, আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সেটায় লগ ইন করে, আপনার আবেদন এর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আপনি যে আবেদন করেছেন সেটার একটি কপি পাবেন। সেখানে আপনি কোন কোন পরীক্ষার জন্য এবং কি কি সংশোধন করবেন তা উল্লেখ থাকবে। এখানে আপনি Print নামের একটি অপশন পাবেন, একদম উপরে । সেখানে, ক্লিক করে এটি ডাউনলোড করে নিজের কাছে যত্ন করে রাখুন, পরবর্তীতে এটি কাজে লাগবে। এই পর্যায়ে এসে, আপনাকে সংশোধনের জন্য, আবেদন ফি জমা দিতে হবে।

আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা দেখার জন্য নিচের পদক্ষেপ অনুসরণ করুন :

– আগের মত নাম ও বয়স সংশোধন অপশন এ ক্লিক করুন।
– এবার সর্বশেষ অবস্থা এই অপশনটিতে ক্লিক করুন।

আপনি আপনার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা এরপর দেখতে পারবেন। যদি টাকা জমা না দেন তাহলে টাকা জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া থাকবে আর আপনার টাকা জমা দেওয়া হয়ে গেলে স্কুল অথবা কলেজ থেকে ফরওয়ার্ড করার জন্য নির্দেশ দিবে।

সার্টিফিকেট সংশোধন আবেদন ফি জমা দেওয়ার নিয়ম

সংশোধনের আবেদন ফি অনলাইন কিংবা অফলাইনে উভয়ভাবেই জমা দিতে পারবেন। আপনার আবেদন কপি তে একটি অপশন পাবেন সোনালী স্লিপ নামে । সেখানে ক্লিক করুন।

অনলাইনে, শিক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | SSC, HSC, JSC, DIBS The Dhaka Journal সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম SSC HSC JSC DIBS

অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধন আবেদন ফি জমা দেওয়ার জন্য আপনি তিনটি অপশন পাবেন। ব্যাংকের মাধ্যমে, মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) এবং কার্ড (Visa/Mastercard) এর মাধ্যমে।

ধরুন, যদি অনলাইন এ দিতে চান তাহলে যেভাবে দিবেন, কার্ড অথবা মোবাইল ব্যাংকিং তা সিলেক্ট করুন। আবেদন ফি দেওয়ার পর এবার আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হবে যা, ডাউনলোড দিয়ে নিজের কাছে যন্ত্র করে রাখুন । প্রতিটি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফি হচ্ছে ৫০০ টাকা। আর অনলাইনে আবেদন ফি জমা দিলে ৭.৮৮ টাকা চার্জ । সুতরাং অনলাইনে, শুধু একটি পরীক্ষার জন্য আপনাকে ৫০৭.৮৮ টাকা ফি জমা দিতে হবে।

আবার যদি অফলাইনে অর্থাৎ ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে চান তাহলে প্রথম অপশন টি সিলেক্ট করুন এবং সোনালী স্লিপ ডাউনলোড করে ব্যাংকে টাকা জমা দিবেন। এবার ব্যাংকে জমা দেয়ার ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৫০০ টাকা এবং চার্জ ৫৮ টাকা প্রযোজ্য হবে । সুতরাং অফলাইনে একটি পরীক্ষার জন্য আপনাকে ব্যাংকে প্রায় ৫৫৮ টাকা জমা দিতে হবে।

টাকা জমা দেবার পর, ব্যাংক আপনাকে একটা জমা রশিদ এর অংশ দিবে, যা যত্ন সহকারে নিজের কাছে রেখে দিবেন। এরপর টাকা জমা দেওয়ার পর আবেদনটি আপনার স্কুল এবং কলেজে চলে যাবে। তখন আপনাকে স্কুল/কলেজ এর যে কোন একটির মাধ্যমে ফরওয়ার্ড করিয়ে নিতে হবে।

স্কুল কিংবা কলেজ থেকে ফরওয়ার্ড করানো

আপনি আপনার স্কুল বা কলেজের কম্পিউটার অপারেটর/আইটি সাথে যোগাযোগ করলে, উনি কাজটি করে দেবেন। স্কুল থেকে আবেদনটি ফরোয়ার্ড করলে, তখন আপনি আইডি আর পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে করলে দেখতে পারবেন যে আপনার আবেদনটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এরপর শুধু আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। এখন পরবর্তীতে কি করতে হবে তা আপনাকে মেসেজে জানিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণত ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই এটা সংশোধন হয়ে যায়। তবে ১৫ দিন থেকে ৬ মাসেরর মতও লাগতে পারে।

বোর্ড মিটিং

আপনার নাম একটি, বোর্ড মিটিং এর মাধ্যমে সংশোধিত হয়ে থাকে। তাই অনেক সময় আপনাকে বোর্ড মিটিংয়ে ডাকতেও পারে আবার নাও ডাকতে পারে। সাধারণত কোন ছোটখাটো কোনো ভুল যেমন : নামের মাঝখানে স্পেস না থাকা, আক্ষরিক ভুল ইত্যাদির জন্য সাধারণত বোর্ড মিটিংয়ে ডাকে না। কিন্তু আপনি যদি পুরো নাম পরিবর্তন করতে চান কিংবা টাইটেল পরিবর্তন করতে চান তখন হয়তো বা আপনাকে বোর্ড মিটিংয়ে ডাকতে পারে।

আর যদি আপনাকে বোর্ড মিটিংয়ে ডাকে তবে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। তখন আপনাকে অবশ্যই আপনার যাবতীয় সকল ডকুমেন্টের মুল কপি নিয়ে যথাসময়ে ঢাকা বোর্ডে উপস্থিত হতে হবে। এরপর বোর্ড মিটিং এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনার নাম সংশোধিত হবে। আর তখন আপনি একটি ম্যাসেজ পাবেন। এরপর ফ্রেশ কপির জন্য এপ্লাই করতে হবে আপনাকে।

সংশোধিত সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্টের জন্য আবেদন করার নিয়ম ও তথ্য :

আপনার সার্টিফিকেট সংশোধনের আবেদন সম্পূর্ণ হলে এরপর আপনি মেসেজ পাবেন এবং আপনার প্রোফাইল এ গেলে Print Order নামের একটি অপশন পাবেন। সেখানে ক্লিক করে প্রিন্ট অর্ডারটি ডাউনলোড করতে হবে। এই প্রিন্ট অর্ডার এ আপনার নাম যে সংশোধন হল তা উল্লেখ থাকবে।

এখন আপনি যে যে কাগজপত্র নতুন করে তুলতে চান তার জন্য আলাদা আলাদা করে আপনাকে আবেদন করতে হবে। যেমন: মনে করেন আপনি শুধু এস এইচ এসসি এবং এসএসসি এর ট্রান্সক্রিপ্ট এবং সার্টিফিকেট তুলতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে এসএসসি ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট, এইচএসসি ট্রান্সক্রিপ্ট, সার্টিফিকেট এর জন্য আলাদা করে মোট চারটি আবেদন করতে হবে। এভাবেই যতগুলো কাগজ তুলবেন ততগুলো আবেদন করতে হবে আপনাকে।।

এবার সংশোধিত ফ্রেশ সার্টিফিকেট, ট্রান্সক্রিপ্ট কিংবা এডমিট কার্ড এর জন্য আবেদনের সময়, আরো কিছু ডকুমেন্ট চাইতে পারে, সেগুলো ও আপলোড দিবেন। যেমন সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার এডমিট কার্ড এর জন্য আবেদন করলে আবশ্যক রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সফট কপি।

সংশোধিত সার্টিফিকেট কপির জন্য আবেদন করার নিয়ম

– প্রথমেই সংশোধিত সার্টিফিকেট উঠানোর জন্য ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে যাবেন এবং Online Application এ ক্লিক করুন। অথবা এই লিঙ্কে ক্লিক করে সরাসরি অনলাইন আবেদন পেজ এ যান এবং ডকুমেন্ট উত্তোলনের জন্য আবেদন বাটনটিতে ক্লিক করুন। নতুন পেজটি দেখতে নিচের ছবির মতো হবে।

অনলাইনে, শিক্ষা সংক্রান্ত সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম | SSC, HSC, JSC, DIBS The Dhaka Journal সংশোধিত সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য আবেদন SSC HSC JSC DIBS

– এবার আপনার পরীক্ষা সিলেক্ট করুন; আইডি, রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে Find অপশন এ ক্লিক করুন।
– এখন আপনার ডকুমেন্ট এর আবেদন ফর্ম ওপেন হবে। এখানে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং ডকুমেন্ট আপলোড করে সাবমিট করতে হবে।

এখানে সবগুলোর ডকুমেন্ট এর জন্য আলাদা আলাদা করে আবেদন করতে হবে। এরপর আলাদা আলাদা আবেদনের জন্য আলাদা আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে এবং ওয়েব সাইটে আপনার জন্য আলাদা আলাদা প্রোফাইল তৈরি হবে এবং ওয়েবসাইটে আপনি আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে আগের মত আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবেন।

সংশোধিত সার্টিফিকেট উত্তোলনের খরচ

এখন আগের আবেদনের মতো আবেদন ফি জমা দিতে হবে। এবার প্রতিটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড এর জন্য আবেদন ফি ২০০ টাকা। আর বাকি সব ডকুমেন্ট এর জন্য আবেদন ফি ৫০০ টাকা করে দিতে হবে। অনলাইনে ফি জমা দিলে রেজিস্ট্রেশন কার্ডের জন্য চার্জ ৪.১৫ টাকা এবং বাকিগুলার জন্য ৭.৮৮ টাকা করে। আর ব্যাংকে গিয়ে জমা দিলে সব ডকুমেন্ট এর জন্য চার্জ ৫৮ টাকা করে।

ফ্রেশ কপির জন্য আবেদন করার তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই সাধারনত মেসেজ আসা শুরু হয়।এরপর এক থেকে দেড় মাসের মাঝে আপনার সব ডকুমেন্ট রেডি হয়ে যায়। শুধু বোর্ড থেকে আবেদনের কপি, পেমেন্ট স্লিপ, প্রিন্ট অর্ডার এবং পুরাতন ডকুমেন্ট দিয়ে নতুন সংশোধিত ডকুমেন্ট তুলে নিয়ে আসতে হবে।

ব্যাস, আপনার এখানেই কাজ শেষ। এটাই হলো নাম সংশোধন সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম ও পদ্ধতি।

অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধন নিয়ে শেষ কথা

সার্টিফিকেটের নাম সংশোধন ও বয়স সংশোধন একসাথে আবেদন করা যায় না। আপনি যদি নাম ও বয়স সংশোধন করতে চান তাহলে আলাদা করে দুইবার আবেদন করতে হবে। তার মধ্যে একটি নাম সংশোধন এর জন্য আরেকটি বয়স সংশোধন এর জন্য। বাকি সব পদ্ধতি একই।

মনে রাখবেন, এইচএসসি পরীক্ষা হয়ে গেলে কিন্তু আপনার সার্টিফিকেটের বয়স সংশোধন করা যাবে না। আর অবশ্যই আবেদন করার সময় অনলাইন এ টাকা জমা দিলে কম্পিউটার ব্যবহার করবেন। কেননা, অনেক সময় মোবাইলে টাকা জমা দেওয়ার পর স্লিপ ডাউনলোড করতে সমস্যা হতে পারে।

আশা করি, এভ প্রতিবেদনটি পড়ার পর অনলাইনে সার্টিফিকেট সংশোধন করার নিয়ম আপনার কাছে এখন পরিষ্কার হয়েছে।

Leave a reply