বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি প্রয়োজন ? | bdris.gov.bd

বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি প্রয়োজন ? | bdris.gov.bd

জন্ম নিবন্ধন অথবা জন্ম সনদপত্র জাতীয় পরিচয়পত্রের মতই একটি ডকুমেন্ট বা প্রমানপত্র যা, দেশের সকল নাগরিকের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ । তাই আপনার শিশু জন্মের পর পরই অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজের পাশাপাশি বাবা-মায়ের করনীয় সরকারি খাতায় আপনার শিশুর নামটি লিপিবদ্ধ করানো। আজকের এই প্রতিবেদনে, তুলে ধরা হয়েছে, বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি প্রয়োজন।

জন্ম নিবন্ধন কি?

জন্ম নিবন্ধন হচ্ছে একটি শিশু জন্ম গ্রহনের পর সরকারি রেজিস্টারে শিশুর যাবতীয় তথ্যাবলি অর্ন্তভুক্ত করার গুরুত্বপূর্ন প্রক্রিয়া । বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে, নতুন জন্ম গ্রহনকারী শিশুর জাতীয়তা নিশ্চিত করার জন্য, জন্ম ‍নিবন্ধনই হচ্ছে প্রথম ধাপ। আর এই জন্ম নিবন্ধনের ফলেই কোন ব্যাক্তিকে রাষ্ট্র, নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।

বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগবে ?

বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে প্রয়োজন আবেদন ফরম পূরণের প্রিন্ট কপি, ০১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র, পিতা- মাতা জন্ম নিবন্ধন ও পিতা- মাতার জাতীয় পরিচয়। বিস্তারিত ভাবে এই বিষয়ে বোঝার জন্য সম্পূর্ন পোস্ট পড়ুন ।

০-৪৫ দিন বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে ?

১। অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ এর প্রিন্ট কপি
২। বাচ্চার ০১ কপি ছবি পাসপোর্ট সাইজ
৩। জন্মস্থান ও জন্ম তারিখের প্রমাণপত্র হিসাবে হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত জন্ম সনদের সত্যায়িত অনুলিপি
৪। পিতা- মাতা জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র অনলাইন প্রিন্ট কপি
৫। অভিভাবকের ইউপি ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি
৬। আর পিতা- মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি

৪৫দিন – ৫ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে?

১।  প্রথমেই অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের প্রিন্ট কপি 
২। বাচ্চার ০১ কপি ছবি পাসপোর্ট সাইজ  
৩।  পিতা- মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র এর ফটোকপি 
৪। অভিভাবকের ইউপি ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি 
৫। পিতা- মাতা জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র অনলাইন প্রিন্ট কপি
৬। ইপিআই (টিকা) কার্ডের ফটোকপি  

৫ বছর থেকে ঊর্ধ্বে পর্যন্ত বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন করতে কি কি লাগে

১।  অনলাইন  আবেদন ফরম পূরণ এর প্রিন্ট কপি 
২। বাচ্চার এক কপি ছবি পাসপোর্ট সাইজ 
৩। সরকার কর্তৃক পরিচালিত চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র বা  প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী স্কুল সার্টিফিকেট অথবা শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক এসএসসি/ এইচএসসি বা অনুরূপ পরীক্ষায় শিক্ষাগত সনদপত্রের ফটোকপি
৫। পিতা- মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি 
৬। পিতা- মাতা জন্ম নিবন্ধন সনদপত্র

জন্ম নিবন্ধন-এর জন্য প্রয়োজনীয় ফি/ খরচ :

১। ৪৫ দিন বয়সী শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে বিনামূল্যেই 
২। ৪৫ দিন পর অর্থাৎ ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের ২৫ টাকা ফি জন্ম নিবন্ধনের জন্য। দেশের বাইরে থেকে জন্ম নিবন্ধনের জন্য ফি ১ মার্কিন ডলার
৩।  বাংলা-ইংরেজি দুই ভাষাতেই মূল সনদ পেতে বা সনদের কপি পেতে তথ্য সংশোধনের পর সম্পূর্ণ ফ্রিতেই করা যাবে
৪। কিন্তু বাংলা-ইংরেজি দুটো ভাষাতেই পেতে জন্ম নিবন্ধন সনদের নকল  ৫০ টাকা এবং দেশের বাইরের প্রার্থীদেরকে ১ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে
৫।  জন্ম সনদ সংশোধন ১০০ টাকা ফি। আর দেশের বাইরের প্রার্থীদের জন্য ২ মার্কিন ডলার

 নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন: ২০২২

একটি নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন কিভাবে করবেন তা বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো – বর্তমানে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরণ করে আবেদন করা যায়না । তাই আপনাকে অবশ্যই অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন ফরম পূরন করতে হবে । জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুসারে বাধ্যতামূলক শিশু জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করা ।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের জন্য আবেদন এর জন্য আপনাকে কি কি করতে হবে –

১। প্রথমেই শিশুর জন্মস্থান নির্ধারন 
২ । শিশুর  পিতা-মাতার যাবতীয় তথ্যাবলি 
৩।  শিশুর স্থায়ী এবং বর্তমান সঠিক ঠিকানা 
৪। যে আবেদনটি করবে তার ব্যাক্তিগত তথ্যবলি

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন ফরমটি সঠিক ভাবে পুরন করে সাবমিট করলে, আপনি ঐ ফরম প্রিন্ট করার অপশন পেয়ে যাবেন। এবার ঐ আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করে উপরোক্ত সকল ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র নিয়ে গিয়ে সহকারে আপনার সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে জমা দিবেন। সকল প্রকার কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত অফিস কতৃক যাচাই-বাছাইয়ের এরপর ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে ।

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের শর্তাবলি :

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের শর্তাবলি তুলে ধরা হল প্রথমে, বাবা অথবা মায়ের নাম সংশোধন করার ক্ষেত্রে তাদের অনলাইনে নিবন্ধিত জন্ম সনদপত্রের নম্বর দিয়ে তথ্য সংশোধনের এর আবেদনপূর্বক তাদের নাম সংশোধন করতে হবে। তারপর প্রার্থীর  বাবা-মায়ের নাম জন্ম নিবন্ধনে সংশোধনের জন্য আবেদন করা যাবে।

বাবা-মায়ের জন্ম সনদ না থাকলে এবং ২০০১-এর আগে প্রার্থীর জন্ম তারিখ হলে, তার জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদনের সময় বাবা-মায়ের নাম ঠিক করা যাবে। সেক্ষেত্রে যদি তাদের কেউ মৃত হলেও মৃত্যুর কোনো প্রমাণ দেখাতে হবে না। সেই সাথে তাদের আলাদা করে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধনেরও কোনো ব্যাপার থাকছে না।

কিন্তু ২০০১ এর পরে প্রার্থীর জন্মগ্রহণকারী হলে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদনের সময় পিতা বা মাতার নাম সংশোধনের জন্য তাদের মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই :

জন্ম নিবন্ধন কিভাবে যাচাই করবেন তা বিস্তারিত জানার জন্য এই লিংকে ক্লিক করুন

জন্ম নিবন্ধন নিয়ে সচারচর করা কিছু প্রশ্ন ও উওর

 ১। প্রশ্নঃ বাচ্চাদের জন্ম নিবন্ধন কখন করতে হয়?

উত্তরঃ সাধারনত, একজন শিশুর জন্মের দিন থেকে ৪৫ দিন অথবা ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে নতুন জন্ম নিবন্ধন করলে বেশি ভালো  হয়।

২। প্রশ্নঃ নতুন জন্ম নিবন্ধন কোথায় করতে হয়?

উত্তরঃ জন্ম নিবন্ধন করার জন্য  আপনার সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে  আবেদন করতে হয় ।

৩। প্রশ্নঃ নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে কি কি লাগে?

উত্তরঃ একজন নবজাতকের বা শিশুর বয়স অনুসারে কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা  ভিন্নধরনের । আমার লেখা আর্টিকেলটি পুরাপুরি ভালোভাবে পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন যে কি কি কাগজপত্র দরকার । সাধারনত ০-৪৫ দিনের/ ৪৫দিন-৫বছর/ ৫বছর থেকে ঊর্দ্ধে ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে।

৪। প্রশ্নঃ  জন্ম নিবন্ধন কত দিন পর পাওয়া যায়?

উত্তরঃ আপনার কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্ধারিত অফিস কতৃক যাচাই-বাছাইয়ের পর ৫ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে ।

৫। প্রশ্নঃ নতুন জন্ম নিবন্ধন কিভাবে করতে হয়?

উত্তরঃ একটি নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে হলে প্রথমে আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে । তারপর সেই ফরমটি প্রিন্ট করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহকারে আপনার সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন/ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে আবেদন জমা দিতে হবে ।

৬। প্রশ্ন: আমার বাংলা এবং ইংরেজী সনদ প্রয়োজন কি করবো?

উত্তর: একই সাথে দুটি ফরমেটই প্রদান করা হয়। বাংলা এবং ইংরেজী ভার্সন মোট দুটি ভার্সন, দুটি কপি।

জন্ম নিবন্ধন website: bdris.gov.bd

Leave a reply