চীনে পড়তে যেতে চাইলে, যেসব প্রশ্নের উওর ও তথ্য জেনে রাখা ভালো

চীনে উচ্চশিক্ষা

চীন, বর্তামানে উচ্চশিক্ষার জন্য, অনেক শিক্ষার্থীরই প্রিয় গন্তব্য। চীনে পড়ালেখা–সংক্রান্ত ১০টি সচারোচর করা প্রশ্নের উওর জেনে নিন, এই প্রতিবেদন থেকে৷

HSC পরই কি স্নাতকের জন্য চীনে যাওয়া যায়?

উওর : অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা স্নাতক প্রোগ্রামের অধীনেই চীনে পড়তে যায় । চীনা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই পড়া যায় চীনে। তবে চীনা মাধ্যমে পড়তে হলে আগে অবশ্যই চীনা ভাষায় দক্ষ হতে হবে। অথবা চায়নায় গিয়ে, প্রায় ১ বছর চীনা ভাষা শিখে তারপর মূল কোর্সে প্রবেশ করতে হয়। চীনা ভাষায় পড়লে বেশ কয়েকটি সুবিধা আছে। বৃত্তি পাওয়া যেমন সহজ, বৃত্তির সুযোগ-সুবিধাও তেমনি বেশি সহজ। এখানে প্রকৌশল, মেডিকেল, ব্যবসায় শিক্ষাসহ সব ধরনের বিষয়ে পড়ালেখা করার সুযোগ আছে। তবে যদি, মেডিকেল স্কুলগুলোয় পড়তে চান তাহলে আগে থেকেই বিএমডিসির (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

চীনে পড়তে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো বৃত্তি কোনটি?

উওর : বৃত্তি সবচেয়ে ভালো হলো চীনা সরকারি বৃত্তি (সিএসজি)। এটা চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিল থেকে এই বৃত্তিটা দেওয়া হয়। www.campuschina.org এই ওয়েবসাইটে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃত্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। এই বৃত্তির জন্য আবেদন করার দুটি পথ রয়েছে। সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন অথবা বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে আবেদন। বৃত্তির আওতায় পড়ে টিউশন ফি, হোস্টেল ফি, স্বাস্থ্যবিমা—সবই। ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে দেওয়া হবে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডির জন্য যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০, ৩ হাজার এবং ৩ হাজার ৫০০ ইউয়ান । এটি বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় যথাক্রমে ৩৬ হাজার, ৪৩ হাজার এবং ৫০ হাজারের সমতুল্য। বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস থেকে আবেদন (টাইপ এ) করলে চীনে যাওয়া এবং ফিরে আসার সব খরচও দেওয়া হয়। তবে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করলে এ সুযোগ থাকে না।

চীনা সরকারি বৃত্তির জন্য কী কী যোগ্যতা লাগে?

উওর : চীনে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদনের ন্যূনতম একটি যোগ্যতা আছে। সব স্কুলেই স্নাতক আবেদনের জন্য উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতকোত্তরের জন্য স্নাতক এবং পিএইচডির জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। প্রথম কাতারের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আইইএলটিএস বা এইচএসকে (চীনা ভাষার দক্ষতা পরীক্ষা) দরকার হয়। তবে কেউ যদি ইংরেজি মাধ্যমে লেখাপড়া করে থাকে, তাহলে এমওআই (মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন) সনদ দিয়ে আবেদন করা যাবে।

কোন কোন বিষয় বৃত্তি পেতে সাহায্য করে?

উওর: প্রথমত, একটা ভালো ‘স্টাডি প্ল্যান’ খুব জরুরি। সহশিক্ষা কার্যক্রমকে এ ক্ষেত্রে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়। চীনা ভাষা বা সংস্কৃতির ওপর কোনো কোর্স বা অভিজ্ঞতা থাকলে সংযুক্ত করা যেতে পারে। মাস্টার্স বা পিএইচডি লেভেলে আবেদনের জন্য যদি পাবলিকেশন থাকে, সংযুক্ত করা যাবে। এটা বৃত্তি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। গবেষণার অভিজ্ঞতাকে খুবই প্রাধান্য দেওয়া হয়। চীনা সরকারি বৃত্তির জন্য কমপক্ষে দুটি ‘রিকমেন্ডেশন লেটার’ প্রয়োজন হয়। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক বৃত্তির কোটা থাকে। তাই পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে বৃত্তির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা জরুরি।

চীনে আর কী কী বৃত্তি আছে?

উওর: ব্যাচেলর বা মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের জন্য বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়েই টিউশন ফি মওকুফের বৃত্তি আছে চীনে। স্নাতক শ্রেণিতে ইংরেজি মিডিয়াম পড়লে এই বৃত্তি তুলনামূলক সহজে পাওয়া যায়। চীনের প্রতিটি প্রদেশের আলাদা বৃত্তি আছে। এই বৃত্তিগুলোকে বলা হয় প্রভিন্সিয়াল স্কলারশিপ। সাধারণ বৃত্তিগুলোর পাশাপাশি পিএইচডি ফেলোশিপ বা বিশেষ ট্যালেন্ট বৃত্তি আছে। এগুলো পুরোপুরি গবেষণানির্ভর প্রোগ্রামগুলোর জন্য। এই ফেলোশিপগুলোতে টাকার পরিমাণ সাধারণ বৃত্তির চেয়ে অনেক বেশি থাকে। এছাড়াও, বেল্ট অ্যান্ড রোড বৃত্তি, মফকম বৃত্তি, এন্টারপ্রাইজ বৃত্তিসহ নানা ধরনের বৃত্তি চালু আছে।

চীনে পড়তে হলে চীনা ভাষা কি শিখতেই হয়?

উওর : চীনে পড়তে হলে চীনা ভাষা শেখাটা বাধ্যতামূলক নয় । তবে এখানে জীবনযাপন সহজ করার জন্য চীনা ভাষা শেখা অবশ্য জরুরি। চীনে ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় জেনারেল কোর্স হিসেবে ১-২টি চীনা ভাষার কোর্স দিয়ে থাকে। এগুলো থেকে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করা যায়। যাঁরা চীনা ভাষা জানেন, তাঁরা চাকরির বাজারে আলাদা প্রায়টি পান। তাই আমার মনে হয় ভাষাটা শিখে নেওয়াই ভালো। প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ চীনা ভাষায় কথা বলে। অতএব নিশ্চয়ই এমন একটা ভাষার সুবাদে আপনার সামনে খুলে যেতে পারে সুযোগের অনেক দরজা।

চীনে জীবনযাত্রার ব্যয় কেমন?

উওর: খরচ আসল, নির্ভর করে শহরের/জায়গার ওপর। বেশির ভাগ ছোট ও মাঝারি শহরগুলোতে খরচ অনেক কম। অনেকটা আমাদের ঢাকার মতো। তবে বড় শহরগুলো, যেমন বেইজিং, সাংহাই—এগুলো বেশ ব্যয়বহুল। ছোট বা মাঝারি মানের শহরগুলোতে থাকলে ১০ হাজার টাকায় খাবার খরচ হয়ে যায়। হোস্টেল ফি তুলনামূলক কম। প্রতি মাসে ৪০০-৬০০ ইউয়ান। বাংলাদেশী টাকার অঙ্কে ৬-৮ হাজার টাকার মতো। বেশির ভাগ স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রান্নাঘর থাকে। তাই কেউ চাইলে তার পছন্দমতো খাবার রান্না করে খেতে পারবেন।

কেউ বৃত্তি ছাড়া পড়তে চাইলে খরচ কেমন?

উওর : বৃত্তি ছাড়া পড়ার জন্য মেডিকেল স্কুলগুলোয় খরচ একটু বেশি। তবে প্রকৌশল, ব্যবসায় শিক্ষাসহ অন্যান্য অনুষদে লেখাপড়ার জন্য খরচ কিছুটা কম। স্নাতক শ্রেণিতে পড়ার জন্য বছরে ১৫ হাজার ইউয়ান থেকে শুরু করে ৫০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় সাধারণত ১৫-৩০ হাজারের মধ্যে (প্রায় ২,৮০,০০০ টাকা)।

ঘরে বসে কীভাবে চীনা ভাষা শিখতে পারি?

উওর: নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কনফুশিয়াস ইনস্টিটিউট, ঢাবির ভাষা ইনস্টিটিউটে গিয়ে এই ভাষা শিখতে পারলে সবচেয়ে ভালো। এ ছাড়া চীনের অনেকগুলো বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে বিদেশিদের জন্য কিছু কোর্স অফার করে থাকে ।

পড়ালেখার পাশাপাশি কাজ করার সুযোগ আছে কি?

উওর : চীনে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ সুবিধা আগে ছিল না। ২ বছর হয় সরকার কাজের অনুমতি দিচ্ছে। তবে প্রক্রিয়াটা একটু জটিল। অন্তত এক বছর পড়ালেখা করে তারপর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুপারভাইজারের অনুমতি নিয়েই আপনি খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। যেহেতু বাংলাদেশিদের সঙ্গে যেহেতু চীনাদের অনেক রকম ব্যবসা আছে, সেহেতু কিছু কিছু কাজের সুযোগও আছে।

চীনে পড়ালেখা করে সে দেশে চাকরির সুযোগ কেমন?

উওর: চীনের পড়ালেখার মান ভালো এবং বাস্তবমুখী। শিক্ষার্থীরা যখন কোনো চীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়, তারা একটা ভালো দক্ষতা নিয়েই তারা বের হয়। একটা বড় অংশের ছাত্রছাত্রীরা ক্যাম্পাসে থাকা কালেই তারা চাকরির অফার পেয়ে যান। পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফিরেও চাকরির সুযোগ আছে।

Leave a reply