অ্যালার্জি জনিত হাঁচি-কাশি ও তার প্রতিকার কি?

অ্যালার্জি জনিত হাঁচি-কাশি ও তার প্রতিকার কি?

প্রতিদিনই সকালে ঘুম থেকে ওঠা মাত্রই কিংবা রাতে শুয়ে গায়ে চাদর দিতেই হাঁচি৷ আবার, পুরনো বইয়ের তাকে বই খোঁজা, এসি ঘরে থাকা, রাস্তায় বের হওয়া–হাঁচি যেন কোনভাবেই পিছু ছাড়তে চায় না৷ ঠান্ডা লাগার তোন কারণ নেই, তারপরও হাঁচির দাপট বাড়তেই থাকে৷ এই হাঁচি আবার কিন্তু অ্যালার্জির কারণেও হতে পারে৷ তাই শুরুতেই, এই ধরনের অ্যালার্জি থেকে দূরে থাকতে সতর্ক হন ৷ এই হাঁচি, কাশি, অ্যালার্জি: ঘনঘন সর্দি, কাশি, হাঁচির কারণ অ্যালার্জিও৷ সাধারনত, ভাইরাস ইনফেকশন থেকে এই সমস্যা হয়৷ এছাড়াও আবার অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকেও হতে পারে হাঁচি, কাশি৷সাধারনত,  বর্ষাকালে, শীতকালে এই কারণে সর্দি-কাশি হয়৷ এছাড়াও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকেও হতে পারে৷

অ্যালার্জিক রাইনাইটিস দুই ধরনের হয়ে থাকে৷ একটি সিজনাল রাইনাইটিস ও অন্যটি পেরেনিয়াল রাইনাইটিস৷ সিজনাল রাইনাইটিসেই বেশিরভাগই মানুষ আক্রান্ত হয়৷ প্রায় সারা দেশে ৬০০ মিলিয়ন মানুষ এই অ্যালার্জির সমস্যায় ভুগছেন৷এটি ধুলো, ফুলের রেণু থেকে এই অ্যালার্জি হয়৷ আর, পেরেনিয়াল রাইনাইটিস সারা বছর ধরেই চলে৷ এটি ঘরে জমে থাকা ধুলো যার মূল কারণ৷ ঘরের ধুলোয় মধ্যে মিশে থাকে বিভিন্ন ফাংগাস, পতঙ্গ যা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস তৈরি করে থাকে৷ আর এটি শ্বাসের মাধ্যমে অ্যালার্জেন্স শরীরে পৌঁছলে অ্যালার্জি হয়,তারপর এই অ্যালার্জি যখন ফুসফুসে প্রভাব ফেলে তখনই তাকে বলা হয় অ্যাজমা৷

বাচ্চচাদের দেখা যায় সারাদিন ভাল থাকে, কিন্তু রাতে আচমকা সর্দি, কাশি, দেখা যায় অ্যাজমার লক্ষণ৷ আর, বড়দেরও অ্যাজমার কারণে কাশি হয়৷ এছাড়াও সর্দি, কাশি হয় আপার রেসপিরেট্যারি ট্র্যাক ইনফেকশন ও লোয়ার রেসপিরেট্যারি ট্র্যাক ইনফেকশন থেকেও ৷

কীভাবে বুঝবেন? 

সর্দি-কাশি দীর্ঘদিন ধরে থাকলে তার আসল কারণ অ্যালার্জি কি না বুঝতে প্রথমেই ওই রোগীর আনুষঙ্গিক অন্য রোগ আছে কি না তা সম্পূর্ণ যাচাই করে দেখা জরুরি বিষয়৷ অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বা সর্দি, কাশি হলে দেখতে হবে এছাড়াও তার চোখ চুলকানো, অ্যাজমা, চোখ লাল হয় কি না, গায়ে চুলকানি, নাকে কোনও সমস্যা এবং পরিবারে কারও এই ধরনের অ্যালার্জি আছে কি না ইত্যাদি– সমস্ত বিবেচনা করা জরুরি৷

পরিবারে কারও বা বাবা-মায়ের অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে তা থেকেও পরবর্তী প্রজন্মের অ্যালার্জি হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি হয়ে থাকে৷ আর, মডিফায়েড স্কিন প্রিক টেস্ট করা অত্যন্ত জরুরি৷ এই টেস্ট এর মাধ্যমেই বোঝা সম্ভব কী কারণে বা কী থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে৷

অ্যালার্জির লক্ষণ

খুব বেশি হাঁচি হতে থাকবে, নির্দিষ্ট সময় (শীতকাল কিংবা বর্ষাকাল) হাঁচি, কাশির মাত্রা খুব বেশি বাড়়তে থাকবে। আবার, সারা বছর ধরেই হাঁচির কারণ অ্যালার্জি হতে পারে৷ মাঝে মাঝে হাঁচি ভাইরাস যনিত কারণেও হয়৷ গা চুলকানো, চোখ জ্বালা, হাঁপানি, চোখ ছলছল, নাক দিয়ে সর্দি পানি পড়া৷ প্রায়ই মাথার যন্ত্রণা, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া চোখের নিচে কালো দাগ,ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, খুব মোটা হয়ে যায় ইত্যাদি।

অ্যালার্জির জন্য দায়ী কী?

সাধারনত, অ্যালার্জেন্স শরীরের সংস্পর্শে এলে ‘হিস্টামিস’ কেমিক্যাল নির্গত হয়৷ অতিরিক্ত মাত্রায় নিঃসৃত হলে তা থেকে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস হয়৷ ভাসমান ধূলিকণা, ঘরে জমে থাকা ধুলো, মাকড়শার জাল, আরশোলা৷ বিভিন্ন্ ফুলের রেণু৷ কুকুর, বিড়ালের লোম, কটনডাস্ট (বালিশ, বিছানার তুলো)৷ বিভিন্ন রকমের খাবার থেকে৷ জিনঘটিত কারণ ইত্যাদি৷

অ্যালার্জি জনিত হাঁচি-কাশি প্রতিকারের উপায়

বাইরের ধুলো থেকে বাঁচতে বের হওয়ার সময় নাকে ভেজা রুমাল চেপে বেরনো উচিত৷ আবার,অ্যালার্জির সমস্যা থাকলে সকালে বাইরে বেরিয়ে এক্সারসাইজ না করাই ভাল৷  ঘরের কার্পেট, বিছানার তোশক পরিষ্কার করা রাখা  উচিত৷ যাঁদের ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জি হয়, তাদের অবশ্যই সব সময় ঘরে জানলা, দরজা বন্ধ রাখা উচিত৷ ঘরে এয়ারকন্ডিশন চললে অনেক ভাল৷ দূষণের কারণে দেখা যায় ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জির মাত্রা ক্রমশই বাড়ছে৷ আবার, বাড়িতে পোষ্য থাকলে সপ্তাহে দু’দিন স্নান করানো উচিত৷  কোনও খাবার থেকে অ্যালার্জি হলে সেই খাবার না খাওয়াই উচিত৷ বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে অবশ্যই গা-হাত-পা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া উচিত৷

অ্যালার্জি জনিত হাঁচি-কাশির চিকিৎসা

যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হবে, তত তাড়াতাড়ি রোগ হতে সমাধান৷ দেরিতে চিকিৎসা শুরু করলে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থেকে অ্যাজমা কিংবা অ্যালার্জিক ডার্সাটাইটিস হয়ে থাকে৷ লক্ষণ দেখা গেলে অবশ্যই প্রথমে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পারিবারিক ইতিহাস, শরীরে অন্য অসুখ হয়েছিল কি না ও কেমন পরিবেশে রোগী থাকে সমস্ত জানানো উচিত৷  এরপর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসক নাকে স্প্রে, ও অন্যান্য চিকিৎসা করতে পারেন৷ অ্যালার্জি ধরা পড়লে তার মূল চিকিৎসা হলো স্পেসিফিক ইমিউনোথেরাপি, তিন থেকে পাঁচ বছর ধরে এই ট্রিটমেণ্ট করা হয়৷ যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হবে, রোগ হতে বাচতে পারবেন তত তাড়াতাড়ি৷ বাচ্চাদের ক্ষেত্রে রোগ ঠিক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি৷

Leave a reply