অনলাইন ক্লাস কিভাবে করবো ?

অনলাইন ক্লাস কিভাবে করবো ?

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে এই অনলাইনে ক্লাস করার নিয়ম সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা আস্তে আস্তে বাড়ছে। বর্তমানে ছাত্র ছাত্রীদের কাছে অনলাইন ক্লাস খুবই পরিচিত শব্দ। সময়ের সাথে সাথে অনলাইনে ক্লাস কিভাবে করবো এই প্রশ্নকারীর সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। কেননা যেসব প্রতিষ্ঠান পূর্বে অনলাইনে ক্লাস-মিটিং করতে চায়নি, তারাও এখন আর কোন উপায় দেখছে না।

মূলত ২০২০ সালের পর থেকে করোনা মহামারী চলাকালীন সময়ে অনেকে online class এর ব্যাপারে পরিচিত হয়েছি। এই মহামারিতে সকলে ঘর বন্দী হয়ে পড়েছে বলে তখন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরস্পর যোগযোগ ও পাঠ্যদান কর্মসূচি বজায় রয়েছে। তবে শুধু মাত্র করোনা মহামারীর জন্য অনলাইনে ক্লাস হয় এমন কোনো বিষয় নয়, সরাসরি উপস্থিত না হতে পেরে যেকোনো কারণবশত ভার্চুয়ালি যেকোন বিষয় উপর আলোচনা বা ক্লাস করানো কে অনলাইন ক্লাস হিসেবে গণ্য করা হয়।

বর্তমান সময়ে এখন অনলাইন ক্লাসের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে, করোনা মহামারিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে, নিজেকে এবং অন্যকে সুরক্ষিত রাখতে পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যেতে  কিংবা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অফিস সচল রাখতে অনলাইন ক্লাস বা মিটিং এর প্রয়োজনীয়তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিন্তু আমরা অনেকেই এই বিষয়ে জানি না যে, আসলে অনলাইন ক্লাস কিভাবে করায়, অনলাইন ক্লাস কিভাবে করবো । তো আসুন অনলাইন ক্লাস করার নিয়ম সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। অনলাইনে ক্লাস করার জন্য আমরা যেসব অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কিছু অ্যাপ হলো- জুম মিটিংগুগল মিটগুগল ক্লাসরুম 

আরো অনেক অ্যাপস আছে যেগুলোতেও অনলাইন ক্লাস করা যায়। কিন্তু উপরোক্ত তিনটি অ্যাপস সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তার পিছনে রয়েছে ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস, সহজ ব্যবহার পদ্ধতি এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা।

উপরোক্ত এই তিনটি অ্যাপস প্রথমবার ব্যবহার করলেও অ্যাপস গুলোর ইউজার ইন্টারফেস, সেটিংস ও সিস্টেম অনেক সহজ হওয়ার কারণে এইগুলো  খুব দ্রুত সবকিছু বুঝে নেওয়া যায়।

তবে অনেক সময় দেখা যায় যে এমন কোন স্থান থেকে ক্লাস বা মিটিং এ যোগ দিয়েছেন, যেখানে ইন্টারনেটের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনেক সম্ভাবনা আছে, সেক্ষেত্রে উপরোক্ত তিনটি অ্যাপস ব্যবহারের ফলে  অনলাইন ক্লাস রেকর্ডিং সুবিধা দিয়ে থাকে, যাতে পরবর্তীতে আপনি মিসিং ক্লাসগুলো করতে পারেন।

তবে এসকল অ্যাপস নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা যায়, যেমন: জুম মিটিং এ 40 মিনিট পর্যন্ত ফ্রিতে ক্লাস নো ওয়যায়। এক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় যে 40 মিনিট সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে হয়না।  তবে এক্ষেত্রে প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ নিলে সময় লিমিট বাড়ানো যাবে।

অনলাইন ক্লাস করার নিয়ম

এবার আসুন অনলাইন ক্লাস কিভাবে করবো তা স্টেপ বাই স্টেপ জেনে নেওয়া যাক। সাধারনত, আমরা সকলেই জানি যে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন কোম্পানি এবং সরকারি অফিসের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়।তাই এখন কোনো অনলাইন মিটিং বা ক্লাসে যোগ দেওয়ার জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করুন-

অনলাইন ক্লাস করার জন্য সবার আগে আপনি যে ডিভাইসের মাধ্যমে অনলাইনে প্রবেশ করবেন সেই ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ সর্ম্পকে নিশ্চিত করুন।

এবার, অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপস বা ওয়েবসাইটে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ক্লাস নেওয়া হয় আর অনলাইনে ক্লাস করার জন্য ওয়েবসাইটের লিঙ্ক অথবা অ্যাপস এর আইডি এবং পাসওয়ার্ড সংগ্রহ করতে  হবে।

পাসওয়ার্ড এবং আইডি সংগ্রহ করার পর সেই অ্যাপস এ প্রবেশ করে আইডি এবং পাসওয়ার্ড বসিয়ে জয়েন বাটনে ক্লিক করলেই নির্দিষ্ট মিটিং বা ক্লাসে প্রবেশ করতে পারবেন সহজেই।

এবার,অনলাইন ক্লাস শেষ হওয়ার পর অ্যাপস থেকে বের হয়ে আসতে হবে অথবা যদি ওয়েবসাইট থেকে ক্লাস করেন তাহলে অবশ্যই ওয়েবসাইট থেকে ক্রস করলেই হবে।

তবে কোন কারনে যদি আপনার অনলাইন ক্লাস থেকে বের হতে চান তাহলে অবশ্যই লিভ নামক একটি অপশন থাকবে যেখানে ক্লিক করলে আপনারা অনলাইন ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন সহজেই।

আর যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্লাস করতে চান, তাহলে ক্লাসের লিংকটি যেকোন ব্রাউজার দিয়ে ওপেন করুন,পরে  সরাসরি ক্লাসে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর জন্য অ্যাপ ভার্সনটা বেশি সুবিধাজনক হবে।

অনলাইন ক্লাস অ্যাপের বিভিন্ন ফিচার

এখন, আপনি যে অ্যাপসটি ইউজ করছেন, সেখানে ভালোভাবে দেখলে দেখতে পারবেন যে মাইক্রোফোন, ক্যামেরা, চ্যাটিং, স্ক্রিন শেয়ার অপশন রয়েছে। আর এগুলো আপনার ক্লাসের বিভিন্ন সময় কাজে লাগবে। যেমন:

আপনার স্যারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলতে হলে ক্যামেরা অপশন চালু করতে হবে

আবার, আপনার ভয়েস যেন বাকি সবাই শুনতে পায়, সেজন্য মাইক্রোফোন অন রাখতে হবে।আর যদি মাইক্রোফোন অফ থাকলে আপনি এপাশ থেকে যত উচ্চস্বরেই কথা বলুন, কেউ শুনতে পারবেনা।

আবার, আপনার স্ক্রিণে থাকা কোনকিছু যদি অন্যদেরকে দেখাতে চান, তবে স্ক্রিন শেয়ার অপশন চালু করতে হবে।

অনলাইনে ক্লাস করার ওয়েবসাইট

এবার, ডেক্সটপ ল্যাপটপে অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়ার জন্য অনলাইন ক্লাসের লিংকটি কপি করে সহজেই আপনার ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে ব্রাউজারে গিয়ে সার্চ বারে পেস্ট করে সার্চ করলেই আপনারা সরাসরি অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়ে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাদের  কোন ধরনের আলাদা করে অ্যাপস এর মত  মিটিং আইডি এবং পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হবে না।

যেভাবে অ্যাপস এর মাধ্যমে  অনলাইনে ক্লাস করা যায় সেভাবেই ওয়েবসাইট এর মাধ্যমেও অনলাইনে ক্লাস করতে পারবেন। এজন্য অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারবেন জুম মিটিং, গুগল মিটিং, গুগল ক্লাসরুম ইত্যাদি এর লিঙ্ক সংগ্রহ করে লিঙ্কে ক্লিক করলেই হবে।

এছাড়া, ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিউটারে অনলাইন ক্লাস করার জন্য নির্দিষ্ট অ্যাপ এর কম্পিউটার ভার্সন ডাউনলোড করতে পারেন। এজন্য গুগলে অ্যাপ এর নামের সাথে exe file download লিখে সার্চ করলেই হবে। যেমন: জুম অ্যাপের জন্য zoom.exe file download লিখে সার্চ করবেন।

অনলাইন ক্লাস করার জন্য যা প্রয়োজন

সাধারনত, অনলাইনে ক্লাস করার জন্য বেশ কয়েকটি জিনিস প্রয়োজন হয়, তবে সেটি অবশ্যই আপনার নিজ সামর্থ্য এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যবহার করতে পারেন। তবে খরচের দিক থেকে বিবেচনা করলে সবথেকে কম খরচেই দেখা যাবে আপনি মোবাইলের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস করতে পারবেন আর মোবাইলে অনলাইন ক্লাস করতে যা যা লাগবে তা হচ্ছে-

একটি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট সংযোগ অথবা মোবাইল ডাটা, অনলাইন ক্লাস করার অ্যাপস (জুম মিটিং, গুগল মিটিং, গুগল ক্লাসরুম ইত্যাদি), একটি ইয়ারফোন (অনলাইন ক্লাসের আলোচনা গুলো পরিষ্কারভাবে শুনতে, আর অপরদিকে আপনার ল্যাপটপ অথবা ডেক্সটপে অনলাইন ক্লাস করতে চান তাদের জন্য যা যা প্রয়োজন তা হল- ল্যাপটপ অথবা ডেস্কটপ, ওয়েবক্যাম বা ওয়েব ক্যামেরা (যারা ডেক্সটপ ব্যবহারকারীদের জন্য), মাইক্রোফোন , হেডফোন

ইন্টারনেট সংযোগ সর্ম্পকে বলা যায় (এক্ষেত্রে আপনাদের যাদের ডেক্সটপে ল্যাপটপে ওয়াইফাই সুবিধা রয়েছে ওয়াইফ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন অথবা ইথারনেট পোর্ট এর মাধ্যমেও ডেক্সটপ এবং ল্যাপটপ ব্যবহারকারীরা ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন সহজেই। তবে উপরিউক্ত সুবিধা দুটির মধ্যে একটিও না থাকলেও আপনি ইউএসবি মডেম দিয়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করতে পারেন)।

অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখেও শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা আসলেই সম্ভব। উপরিউক্ত নিয়মগুলো সঠিকভাবে পালন করতে পারলে আপনারা অনলাইনে ক্লাসের ভালো অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। আশা করি,আপনারা এখন অনলাইন ক্লাস কিভাবে করবো এই প্রশ্নের উত্তর এবং উপায় খুঁজে পেয়েছেন।

Leave a reply